October 15, 2019 6:00 AM

পদ্মা নদীর পানি বিপদসীমার ৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত

আলোচিত ডেস্ক: পদ্মার পানি বেড়ে  বিভিন্নস্থানে বিপদ সীমার  উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানিবন্দি আছে কয়েক হাজার মানুষ। প্রতিনিধির পাঠানো রিপোর্ট।

পাবনা প্রতিনিধি: আমাদের পাবনা প্রতিনিধি  জানান,পাবনার পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানি বিপদসীমার ৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এখন পর্যন্ত বিপদসীমা ১৪ দশমিক ৩৩ সেন্টিমিটার অতিক্রম করে। আর গত ২২ ঘন্টায় পদ্মায় পানি বৃদ্ধি অপরিবর্তিত রয়েছে।

এদিকে, পদ্মায় পানি বাড়ার কারণে পাবনা সদর উপজেলার ৪টি, ঈশ^রদী উপজেলার ৩টি  ও সুজানগর উপজেলার পৌরসহ ৬টি ইউনিয়ন এর বাসিন্দারা পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ডুবে গেছে শীতকালীন সবজিসহ বিভিন্ন ফসল। গবাদি পশু নিয়ে পড়তে হয়েছে বিপাকে। অনেকে বাড়ি ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছেন উঁচু এলাকার স্বজনদের বাড়িতে। তবে এখন পর্যন্ত  প্রশাসনের কাউকে দেখা যায়নি বলে অভিযোগ সুজানগরের ভুক্তভোগীদের।

পাবনা সুজানগর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহিনুজ্জামান জানান, সুজানগরের ভায়না, নাজিরগঞ্জ,সাতবারিয়া, রায়পুর ইউনিয়নের প্রায় বেশির ভাগ এলাকাই এখন পানির নিচে তলিয়ে আছে। এছাড়া মাঠের সব ফসল ডুবে গিয়েছে ও এখন মুলকাটা পিয়াজ লাগানোর সময় কিন্তু সমস্ত ফসলী জমি ডুবে যাবার ফলে কৃষকরা পিয়াজ রোপন করতে পারছে না।

পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী  প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম জানান, পানি বাড়লেও ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কা নেই। কিছুদিনের মধ্যে পানি নেমে যাবে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উজানে প্রচুর বৃষ্টিপাত হওয়ার কারণে এই পানি বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানান তিনি। গতকাল বুধবার দুপুর থেকে আজ শুক্রবার পর্যন্ত পানি বৃদ্ধি নেই। বন্যার আশঙ্কা নেই। কিছুদিনের মধ্যে পানি নেমে যাবে।

উল্লেখ্য, দীর্ঘ ১৬ বছর পর পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করলো। সর্বশেষ ২০০৩ সালে এই পয়েন্টে পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেছিল।

কুষ্টিয়া  প্রতিনিধি জানান, কুষ্টিয়ায় গত দুই দিন ধরে পদ্মার পানি সমতল স্থিতিশীল রয়েছে। গত বুধবার রাত থেকে পদ্মায় পানি (১৪.৩৩) বিপদ সীমার ৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, ধারনা করা হচ্ছে আজ কালই পানি কমে যেতে শুরু করবে, আবার উজানে ও কুষ্টিয়াঞ্চলে অতি বৃষ্টি হলে পানি বাড়তে পারে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পিযুষ কৃষ্ণ কুন্ডু জানান, পানি কমে আসলে কিছু কিছু অঞ্চলে ভাঙন দেখা দিতে পারে।

এদিকে, বন্যা কবলিত দৌলতপুরের চার ইউনিয়ন, কুমারখালীর জগন্নাথপুরের চারটি গ্রাম, ভেড়ামারার মোসলেমপুর, সদরের গড়াই নদীর চরাঞ্চলেসহ বিভিন্ন স্থানে প্রায় ১ ৫ হাজার মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে। এসব অঞ্চলের অর্থকরি বিভিন্ন ফসলও পানিতে তলিয়ে গেছে।

কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন জানান, দৌলতপুরের বন্যা দুর্গত এলাকা সার্বক্ষনিক মনিটরিং করা হচ্ছে এবং বর্ন্যাতদের মাঝে চাল ডাল তেলসহ শুকনো খাবার বিতরনের পাশাপাশি চিকিৎসাসেবা, বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, পদ্মা ও মহানন্দা নদীর পানি কমতে শুরু করায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। গত ২৪ঘন্টায় পদ্মা নদীর পানি কমেছে ৬ সে.মি এবং মহান্দা নদীর পানি কমেছে ২ সে.মি। তবে পানি কমার সাথে সাথে নদী ভাঙ্গন শুরু হওয়ার আতংকে রয়েছেন নদী তীরবর্তী এলাকায় বসবাসরত লাখো মানুষ। এদিকে ইতিমধ্যে মহানন্দা নদীর তীব্র ¯্রােত থাকায় গোমস্তাপুর উপজেলার কাশিয়াবাড়ি ও নয়াদিয়াড়ী এলাকায় নদী ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। জেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ হাসানুজ্জামান ফৌজদার জানান, সদর উপজেলায় ৫হাজার ৫৬২টি পরিবারের ২৪হাজার ৬২৩জন, শিবগঞ্জ উপজেলায় ৮হাজার পরিবারের ৩২হাজার ৪০০জন এবং গোমস্তাপুর উপজেলার ২৩৮টি পরিবারের ৯৮০জন মানুষ পানিবন্দী রয়েছেন।অন্যদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার চরমোহনপুর ও নামোশংকরবাটি বড়িপাড়া ও জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় ৪’শ পরিবার।  স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোঃ আতিকুর রহমান জানান, গত ২৪ঘন্টায় পদ্মা ও মহানন্দা নদীর পানি কমতে শুরু করায় কয়েকদিনের মধ্যেই প্লাবিত এলাকার পরিবেশ স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

 

 

About Md Uzzal