ডিসেম্বর ১০, ২০১৯ ১১:২১ অপরাহ্ণ ||২৫শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ||১২ই রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরী

নারায়ণগঞ্জে বিএনপি নেতা এ্যাডভোকেট সাখাওয়াত নাশকতার মামলায় গ্রেফতার

নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানকে নাশকতার মামলায় গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। সোমবার বিকেল সোয়া পাঁচটায় নগরীর চাষাঢ়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সাখাওয়াতের বিরুদ্ধে নাশকতার অভিযোগে কমপক্ষে তিন/চারটি মামলা রয়েছে। সেই মামলার তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট আছে। সেই ইস্যুতে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি জানান, গ্রেফতারের পর সাখাওয়াত হোসেনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সদর মডেল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এর আগে নারায়ণগঞ্জে নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে বিএনপি ও এর সহযোগি সংগঠনের ২৪ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করে পুলিশ। ওই মামলায় আটক জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম -সম্পাদককে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। গত ৩১ অক্টোবর সকালে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জয়নাল আবেদীন।
মামলায় অভিযোগ আনা হয়েছে, মঙ্গলবার ৩০ অক্টোবর দুপুরে মহানগর বিএনপির সভাপতি আবুল কালামের অর্থায়নে বিএনপির নেতাকর্মীরা নগরীর চাষাঢ়ায় সমবেত হয়ে গোপন বৈঠক করে। ওই বৈঠকে বিএনপির নেতাকর্মীরা জননিরাপত্তা বিঘিœত করে সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রসহ ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জকে বিচ্ছিন্ন করার গভীর চক্রান্ত¿ করছিল। সেখান থেকে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা পালিয়ে যায় এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে জনমনে আতংক সৃষ্টি করে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ দুটি পুরাতন ভাঙ্গা লাল স্কচটেপ মোড়ানো জর্দার কৌটা ও চারটি ইটের টুকরা জব্দ করা করে। ঘটনার সময়ে আটক জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মামুন মাহমুদ, বিএনপি নেতা নাজমুল হাসান, ইয়াছিন, জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক রফিকুল ইসলামকে গ্রেফতার দেখানো হয়।
ওই মামলা অন্য আসামিরা হলেন মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুকুল ইসলাম রাজীব, মহানগর যুবদলের সভাপতি মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ, মহানগর বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুল ইসলাম সজল, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আবুল কাউসার আশা, মহানগর ছাত্রদলের সিনিয়র সহ সভাপতি রাফিউদ্দিন রিয়াদ, বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট আনোয়ার প্রধান, অ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদ খান ভাষানী, সাবেক কান্সিলর হাসান আহমেদ, মোয়াজ্জেম হোসেন মন্টিসহ অজ্ঞাত আরো ৮জন। এই মামলাতেই মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি এ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুনের ঘটনার মামলায় বাদিপক্ষের আইনজীবি হয়ে আলোচিত হন এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান । ২০১৬ সালের ২২ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামীলীগ দলীয় মনোনীত প্রার্থী ডা: সেলিনা হায়াৎ আইভীর বিপরীতে বিএনপি দলীয় মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহন করে দেশব্যাপী ব্যাপক আলোচনায় আসেন তিনি । নির্বাচনে পরাজিত হলেও এর পর পরই তিনি নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতির পদ পান।

About