মার্চ ২৯, ২০২০ ৪:৫৭ পূর্বাহ্ণ ||১৫ই চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ||৩রা শাবান, ১৪৪১ হিজরী

পটুয়াখালীর আমখোলায়  ১০ টাকা কেজি চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ

গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

গলাচিপার আমখোলায় ইউনিয়নে ১০ টাকা কেজি চাল বিতরণের ডিলারের বিরুদ্ধে চাল কম দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে উপকারভোগীরা প্রতিবাদ করলে ডিলার ও তার পেটোয়া বাহিনী এক উপকারভোগীকে ব্যাপক মারধর করেছে। আহত উপকারভোগীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ব্যাপারে গলাচিপা থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে।

এলাকাবাসী সূত্র জানায়, উপজেলার আমখোলা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের ডিলার জুয়েল স্বর্ণামত রোববার আমখোলা বাজারে এপ্রিল মাসের চাল ৩০ কেজির বস্তা বিতরণের করার কথা থাকলেও তা না দিয়ে বাজারে খোলা মোটা ২৪/২৫ কেজি করে চাল বিতরণ করা শুরু করে। এনিয়ে ভাঙ্গারা গ্রামের উপকারভোগী আল-আমীন প্রতিবাদ করে ডিলার জুয়েল স্বর্ণামতের কাছে  খেলা চাল দেয়ার বিষয় জানতে চায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে  জুয়েল ও তার ভাই জাফর তার উপর অতর্কিত ভাবে হামলা করে। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে  গলাচিপা হাসপাতালে ভর্তি করে। স্থানীয় বশির আহম্মেদ জানান, চিৎকার শুনে সেখানে গিয়ে দেখি জাফর, জুয়েল তাদের পেটোয়া বাহিনী আল-আমীনকে বেধরক মারপিট করছে।ভয়ে চাল নিতে আসা কেউ আল-আমীনকে উদ্ধারে এগিয়ে আসেনি । পরে বাজারে লোক জন গিয়ে আল-আমীনকে উদ্ধার করে গুরুত্বও আহত অবস্থায় গলাচিপা হাসপাতালে ভর্তি করে।

উপকারভোগী আ.জলিল চৌকিদার জানায়, ডিলার ৩০ কেজি চালের দাম ৩শত টাকা নিয়ে চাল দেয় ২৪/২৫ কেজি।

জাফর-জুয়েল আমখোলা বাজারে ভাইয়া বাহিনী হিসেবে পরিচিত। এদের ১০/১২ জনের একটি পেটোয়া বাহিনী রয়েছে। আমখোলা খেয়া ঘাটে টোল আদায়ের নামে চাঁদা বাজি করে। নিয়ম বহির্ভূত ভাবে ট্রলার ও ট্রাকে তরমুজ লোডের সময় টোলের নামে চাঁদা আদায় করে। এর প্রতিবাদ করলেই এই বাহিনীর হামলার শিকার হতে হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আমখোলা বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী জানান, মার্চ মাসেও  জুয়েলের বিরুদ্ধে  চাল কম দেয়ার অভিযোগ ছিল। ডিলার গত মাসে ৫৭জন উপকারভোগীর চাল বিতারণ না করে আত্মসাৎ করেছে।

কোন নাম প্রকাশ করা যাবেনা এমন প্রশ্নের জবাবে  বলেন, আমাদের নাম পত্রিকায় উঠলে ভাইয়া বাহিনীর হামলার শিকার হতে হবে।কিংবা মিথ্যা মামলা করবে। দুই ভাই বউদের দিয়েও মামলা করতে  পিছ পা হয়না। যাদের সম্মান নাই তাদের  ব্যাপারে কিছু বলাও যায়না।

এ ব্যাপারে জুয়েলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে সব কিছু অস্বিকার করে বলেন, এমন ঘটনা ঘটেনি। আমি ৩০ কেজি বস্তার চালই দিয়েছি।

ওই ইউনিয়নের চাল বিতরণের তদারকি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো.মোবাসের আলী হাওলাদার জানান, চাল বিতরণের কথা তিনি জানেনই না।

আমখোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো.মনির হোসেন জানান, চাল কম দেয়ার কোন অভিযোগ আমি পাইনি।  তবে ওখানো সামান্য বিষয় নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে বলে জানান চেয়ারম্যান।

 

 

 

 

 

 

About