মে ২৫, ২০২০ ৭:৪০ পূর্বাহ্ণ ||১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ||১লা শাওয়াল, ১৪৪১ হিজরী

শিশুদের মাঝে আলো ছড়ায় হেলাল

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে আলো ছড়াচ্ছে হেলালের স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আশার আলো শিশু শিক্ষা কেন্দ্র। গ্রামের অসচ্ছল পরিবারের শিশুদের বিনা খরচে শিক্ষা দেয়াই এই প্রতিষ্ঠানের ব্রত। ২০১৪ সালে নিজের টিউশনির টাকায় ২০জন গরীব শিক্ষার্থী নিয়ে গড়ে তোলেন এই প্রতিষ্ঠান । এখন গ্রামের মানুষের কাছে সমাদ্রিত হেলাল ও তার প্রতিষ্ঠান। শিশু থেকে ৩য় শ্রেণির এ শিক্ষা কেন্দ্রে শিক্ষার্থী সংখ্যা এখন ১’শ জন। প্রথমদিকে গরীব শিক্ষার্থীরা পড়লেও এখন কিছু সচ্ছল পরিবারের ছেলেমেয়েরাও পড়তে আসে এখানে। একারণে নিয়োগ দিতে হয়েছে বাড়তি শিক্ষক। এসব শিক্ষকদের সামান্য বেতন দেয়া হয় সচ্ছল শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেয়া ১শ টাকা মাসিক ফি’র টাকায়।
হেলাল নিজেও একজন শিক্ষার্থী। কুড়িগ্রাম সরকারী কলেজের হিসাব বিজ্ঞানে অনার্স শেষ বর্ষের অধ্যায়নরত। উপজেলার হাসনাবাদ এলাকার হেলাল দরিদ্র পিতা আব্দুল জলিলের সন্তান। জন্মের পর থেকেই দারিদ্র্যতার সাথে যুদ্ধ তার। স্কুল জীবনটা কখনো একমুঠো আবার কখনো উপোস অবস্থায় যেতে হয়েছে বিদ্যালয়ে। তবে হাল ছাড়েননি তিনি। ঠিকঠাক চালিয়ে নিয়েছেন লেখাপড়া। মাধ্যমিকে পড়ার সময় থেকেই প্রতিবেশীদের বাড়িতে টিউশনি করে চালিয়েছেন নিজের লেখাপড়ার খরচ। উচ্চ মাধ্যমিক শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ারার ইচ্ছা থাকলেও অর্থাভাবে হয়ে উঠেনি। পরে কুড়িগ্রামেই শুরু করে লেখাপড়া। পাশাপাশি গড়ে তোলেন বিদ্যালয়টি।


হেলাল জানান, তার এলাকার দরিদ্র পবিবারের সন্তানরা যাতে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয় সে লক্ষ্যেই প্রতিষ্ঠা করেছেন আশোর আলো শিশু শিক্ষা কেন্দ্র। নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকেই দরিদ্র শিশুদের জন্য কিছু করার তাগিদেই এই প্রতিষ্ঠান। নিজের লেখাপড়ার খরচ এবং প্রতিষ্ঠানটির খরচ চালাতে হিমশিমে পড়েছে হেলাল। প্রতিষ্ঠার পর হাসনাবাদ ইউনিয়নের সাবেক চেয়াম্যান নূরুজ্জামান ৭টি ব্রেঞ্চ দিয়ে সহযোগীতা করেছেন। এরপর আর কোন সরকারী বা বেসরকারী সহযোগীতা পায়নি সে। তবে হাল ছাড়েননি নিজের টিউশনির টাকা এবং সচ্ছল শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেয়া মাসিক ফি ১শত টাকায় চলছে প্রতিষ্ঠানটি।
শিক্ষার পাশাপাশি গ্রামের যুবকদের নিয়ে গড়ে তুলেছেন স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন যুব ফোরাম। এ সংগঠন বাল্য বিয়ে, মাদক ও যৌতুক বিরোধী আন্দলোন করে আসছে। এসব সমাজকর্মের স্বীকৃতি স্বরুপ আর.ডি.আর.এস বাংলাদেশ ২০১১ ও ২০১২সালে হেলালকে দিয়েছে উদ্যোমী তারুণ্য সনদ। ২০১৭ সালে দিয়েছে যুব নেতৃত্ব বিকাশ ও যুব সংগঠন ব্যবস্থাপনা সনদ।
উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার মনজুর আলম বলেন, বেশকয়েকবার হেলালের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়েছি। সে দীর্ঘদিন থেকে অনেক ভালো কাজ করছে। তাকে কিভাবে সহযোগিতা করা যায় সে বিষয়ে আমরা পদক্ষেপ গ্রহণের চেষ্টা করছি।

 

 

 

About Md Uzzal