জুন ৩, ২০২০ ৪:৫০ পূর্বাহ্ণ ||২০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ||৯ই শাওয়াল, ১৪৪১ হিজরী

অবশেষে মৃত্যুর কাছেই হার মানলো ফাতেমা, সমাহিত হলো “অসমাপ্ত” স্বপ্নের

পাষন্ড স্বামীর বর্বর নির্যাতনের শিকার গৃহবধু ফাতেমা বেগম ১১ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে মৃত্যুর কাছে হার মানলো । সেই সাথে মৃত্যু হলো গর্ভে থাকা অনাগত সন্তানেরও। যাকে নিয়ে একটু একটু স্বপ্নে বীজ বপন শুরু করেছিলেন ফাতেমা। রোববার রাতে বরিশাল-শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। সেই সাথে সমাধিস্থ্য হয় দারিদ্র পরিবারে সন্তান,স্বামী নিয়ে লড়াই করে বেঁচে থাকার একটি “অসমাপ্ত” স্বপ্নের।
পটুয়াখালীর কলাপাড়ার নাচনাপাড়া গ্রামে গত ২৫ মে রাতে শরীরের সঙ্গে সঙ্গে সেই স্বপ্ন পোড়া শুরু হয় ফাতেমার। নেশাগ্রস্থ্য স্বামী সোবাহান গাজী নির্মম নির্যাতন শেষে তার শরীরে আগুন ধরিয়ে দিয়ে জীবন্ত দগ্ধ করতে চেয়েছিলেন। শরীরের প্রায় ৭৫ভাগ দগদগে পোড়া ক্ষত নিয়ে ১১দিন মৃত্যুর সাথে লড়ে অবশেষে পৃথিবীকে বিদায় জানান রোববার রাতে। সেই সাথে পৃথিবীর আলো দেখার আগেই মায়ের গর্ভেই মৃত্যু ঘটে অনাগত সন্তানের, যাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলো ফাতেমা।
রুপা নামের সোয়া দুই বছরের কন্যা সন্তান জননী ছিলো ফাতেমা। কিন্তু স্বামীর নির্মম নির্যাতন, দু’মুঠো ভাত চাওয়ার অপরাধেও মারধর সহ্য করতে না পেরে সন্তানকে ক্ষুধার যন্ত্রনা থেকে বাঁচাতে এবং বাবার ভয়ংকর রুপ দেখে শিশু রুপা যাতে বড় হয়ে জগতের সব বাবাদের প্রতি বিরুপ ধারনা না পোষন করে সে জন্য কলাপাড়া পৌর শহরের নতুন বাজার এলাকায় দাদী হাসিনা বেগমের আশ্রয়ে রেখে আসে অসহায় ওই মা।
কিন্তু এই মেয়ে রুপার হাসি মুখ ও মা ডাক শুনতে একনজর তাকে দেখতে আসার অপরাধেই এই পৃথিবী ছাড়তে হয় ফাতেমা কে। ঘটনার দিন (২৫ মে) মেয়েকে দেখে রাতে একটু দেরি করেই বাসায় ফিরে ফাতেমা। কিন্তু এই দেরি মেনে নিতে পারেনি তার স্বামী সোবাহান গাজী। তাই মেয়েকে কেন দেখতে গেছেন এই অপরাধে মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে ম্যাচের কাঠি জ্বালিয়ে গায়ের ম্যাক্সিতে আগুন ধরিয়ে দিয়ে ঘর আটকে পালিয়ে যায়। ফাতেমার হৃদয় বিদারক আর্তনাদ শুনে প্রতিবেশীরা তাকে উদ্ধার করে কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করে। কিন্তু শরীরের ৭৫ ভাগ পুড়ে যাওয়ায় রাতেই তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল প্রেরন করেন চিকিৎসকরা। এর আগের রাতেও তাকে নির্যাতন করে। জলন্ত সিগারেটের ছ্যাকা দেয় মুখমন্ডলে।
ফাতেমার প্রতিবেশীরা জানান, আবার সন্তান হবে এই খবর শোনার পর থেকে সদা উৎফুল্ল থাকতো। যদি একটা পুত্র সন্তান হয় তাহলে হয়তো সন্তানের মুখ চেয়ে বাবা নেশা ছেড়ে দেবে, সংসারে মনোযোগ দেবে এই আশা করতো। তার সংসারে আর অশান্তি থাকবে না। সর্বদা এ কথাই বলতো প্রতিবেশীদের। কিন্তু শান্তি নয়, অশান্তির আগুনে দগ্ধ হয়েই তাকেসহ মরতে হলো অনাগত স্বপ্নকে। যা এখন প্রতিবেশীদেরও কাঁদাচ্ছে। প্রতিবেশীদের দাবি, যে স্বামী একসাথে স্ত্রী ও পেটের সন্তান পুড়িয়ে মারতে পারে তার বেঁচে থাকার অধিকার নেই। সবাই সোবাহানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছেন।
কলাপাড়া থানার ওসি জিএম শাহনেওয়াজ জানান, ঘটনার পরই পাষন্ড স্বামী সোবাহান গাজীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তাকে আদালতের নির্দেশে পাঁচ দিনে রিমান্ডে আনা হয়েছে।
মিলন কর্মকার রাজু, কলাপাড়া(পটুয়াখালী)থেকে//

About uzzal uzzal