মার্চ ২৯, ২০২০ ৬:৪২ পূর্বাহ্ণ ||১৫ই চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ||৪ঠা শাবান, ১৪৪১ হিজরী

দৃশ্যপট বদলে দেবে ‘দক্ষিণ এশিয়া স্যাটেলাইট’: প্রধানমন্ত্রী

‘দক্ষিণ এশিয়া স্যাটেলাইট’ এ অঞ্চলের দেশগুলোর দৃশ্যপট বদলে দেবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এই স্যাটেলাইটের সফল উৎক্ষেপণের পর শুক্রবার সন্ধ্যায় এক ভিডিও কনফারেন্সে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

বাংলাদেশ, আফগানিস্তান, শ্রীলংকা, নেপাল, ভুটান, মালদ্বীপ ও ভারতের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানেরা এই ভিডিও কনফারেন্সে সরাসরি যুক্ত ছিলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা দক্ষিণ এশিয়ার সকল দেশের সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে এই অঞ্চলকে একটি শান্তিপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।’

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত যৌথভাবে এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক সুদৃঢ়করণে অনেক সাফল্য অর্জন করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে নিশ্চিত যে, এই উপগ্রহ উৎক্ষেপণ দক্ষিণ এশিয়ায় দেশগুলোর দৃশ্যপট বদলে দেবে।’

তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়া স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের মাধ্যমে বাংলাদেশ এবং ভারত তাদের পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রকে স্থল, জল এবং আকাশপথ ছাড়িয়ে মহাশূন্য পর্যন্ত বিস্তৃত করল।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি নিশ্চিত মহাশূন্যে এই সহযোগিতা আমাদের এই অঞ্চলের স্বার্থে আমাদেরকে প্রযুক্তিগত উন্নয়নের উচ্চাকাঙ্ক্ষিত পথে নিয়ে যাবে।’

জিস্যাট-৯ (জিএসএটি) বা দক্ষিণ এশিয়া স্যাটেলাইটটি দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জন্য উপহার হিসেবে ২৩৫ কোটি রুপি ব্যয়ে ভারত সরকার তৈরি করেছে।

জিএসএলভি-এফ০৯ শ্রেণীভুক্ত এই স্যাটেলাইটটি ভারতীয় সময় বিকাল ৫টায় ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টার থেকে (ইন্ডিয়ান স্পেস রিসার্স অর্গানাইজেশন) আইএসআরও’র তত্ত্বাবধানে মহাশূন্যে উৎক্ষেপণ করা হয়।

ভিডিও কনফারেন্স অনুষ্ঠানে সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টার থেকে স্যাটেলাইটটির সফল মহাকাশ যাত্রার ভিডিও ক্লিপও প্রদর্শন করা হয়।

প্রায় তিন বছর সময় নিয়ে আইএসআরও নির্মিত স্যাটেলাইটটির নিক্ষেপণ যন্ত্রসহ এর ওজন ২ হাজার ২৩০ কেজি।

এই স্যাটেলাইটের মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার সংশ্লিষ্ট দেশগুলো যোগাযোগ, দুর্যোগকালীন সহযোগিতা, দেশগুলোর প্রাকৃতিক সম্পদের সঠিক ম্যাপিং, টেলি মেডিসিন, টেলি কমিউনিকেশ, টেলি এডুকেশন, তথ্য-প্রযুক্তিসহ এক দেশের সঙ্গে অন্য দেশের জনগণের যোগাযোগ এবং দুর্যোগকালীন তথ্য সরবরাহ করা যাবে। এছাড়া এই স্যাটেলাইটটি দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের পূর্বাভাস দিয়ে সহযোগিতা করবে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অনুষ্ঠানে সূচনা ও সমাপনী বক্তৃতা প্রদান করেন। এতে আরও বক্তৃতা করেন আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আশরাফ গণি, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী থেসারিং তোবগে, মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ ইয়ামিন আব্দুল গাইয়ুম, নেপালের প্রধানমন্ত্রী পুষ্প কমল দাহাল এবং শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট মৈত্রীপালা শ্রীসেনা।

About Md Uzzal