নভেম্বর ১৪, ২০১৯ ৯:৩৬ পূর্বাহ্ণ ||২৯শে কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ||১৬ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী

পঞ্চগড়ে তীব্র শীতে বিপর্যস্ত জনজীবন ॥ হাসপাতালে বাড়ছে শিশু রোগীর সংখ্যা

 

পঞ্চগড় প্রতিনিধি :
“মাঘের শীতে বাঘ কাঁপে” কথাটি প্রবাদ প্রবচন হলেও সত্যি শীতে কাঁপছে গোটা পঞ্চগড় জেলা। শুধু মানুষই নয় বিপর্যস্ত পশু-পাখিরাও। শিশু ও বৃদ্ধদের অবস্থা আরও কঠিন। প্রতিদিনই হাসপাতাল গুলোতে বাড়ছে ডায়রিয়া ও নিউমেনিয়ায় আক্রান্ত শিশু রোগীর সংখ্যা।
মাঘের প্রায় শেষ প্রান্তে এসে গত চার দিন ধরে হঠাৎ করে ঘন কুয়াশা, তীব্র ঠান্ডা আর উত্তরের হিমেল হাওয়ায় নাকাল হয়ে পড়েছে পঞ্চগড়ের জনজীবন। আকষ্মিক এই শৈত প্রবাহে সকাল থেকে ভর দুপুর পর্যন্ত দেখা মিলছেনা সূর্যের। ঠান্ডার কারণে নি¤œ আয়ের মানুষেরা পড়েছে চরম দুর্ভোগে। বিশেষ করে বৃদ্ধ, শিশু ও গৃহপালিত পশুদের নিয়ে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। দিনের বেলায়ও প্রতিটি গাড়িকে হেটলাইট জ্বালিয়ে মহাসড়কে চলাচল করতে দেখা যাচ্ছে। অনেকেই আবার খড়-কুটো দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে করছেন শীত নিবারনের চেষ্টা।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিস সুত্রে জানা যায়, ১লা ফেব্রয়ারি জেলার সর্বনি¤œ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩.৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ তামাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৮.৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস। ২রা ফেব্রুয়ারি বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত জেলার সর্বনি¤œ তাপমাতা রেকর্ড করা হয়েছে ১০.৯ ডিগ্রী সেলসিয়াস।
শীতের তীব্রতায় দিনের বেলাতেও শহরে জনসমাগম যেমন কমে গেছে তেমনি সন্ধার পর পরই গ্রামের হাট-বাজার গুলো একেবাড়েই ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে।
এদিকে হঠাৎ করে উত্তরের হিমেল হাওয়া আর তীব্র শীতে পঞ্চগড় জেলা শহর সহ পাঁচটি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে শিশুদের ডায়রিয়া-নিউমেনিয়া সহ নানা রোগ। গত চারদিনে জেলার একমাত্র বৃহৎ চিকিৎসাকেন্দ্র পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপতালে প্রতিনিয়ত বাড়ছে শীত জনিত রোগে আক্রান্ত শিশু রোগীর সংখ্যা।
তীব্র শীত আর ঘন কুয়াশার কারনে গত চার দিনে ডায়রিয়া সহ শীত জনিত নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে ২০০ জন শিশু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এছাড়াও প্রতিদিন প্রায় দেড় থেকে দু’শজন শিশু রোগী বহিরবিভাগ থেকে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরছেন বলে জানিয়েছেন হাসপাতল কর্তৃপক্ষ।
শিশু ওয়ার্ডে জায়গা সংকুলান না হওয়ায় চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। পর্যাপ্ত শয্যা ব্যবস্থা (বেড) না থাকায় অনেক রোগীই মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
জেলা শহরের জালাসী পাড়া এলাকার তালিমুল ইসলাম জানান, তিন দিন থেকে তার এক বছরের শিশুর ডায়রিয়া। হাসপতালে ভর্তি করে কয়েকটি স্যালাইন দেওয়ার পর কিছুটা উন্নতি হয়েছে।
জেলার বোদা উপজেলার বেংহাড়ি এলাকার সুফিয়া বেগম জানান, চারদিন ধরে দুই বছরের শিশুর সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্ট। চিকিৎসা নিয়ে এখন কিছুটা ভাল হলেও আরো কয়েকদিন হাসপাতালে থাকতে হবে বলে তাকে বলা হয়েছে।
পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতলের নবজাতক ও শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মনোয়ারুল ইসলাম বলেন, শীতের তীব্রতায় রোটা ভাইরাসে বেশির ভাগ শিশু ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে এছাড়া নিউমেনিয়া সহ শীত জনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে শিশুরা হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। শিশুদের ডায়রিয়া চিকিৎসার জন্য খাবার স্যালাইন ও কলেরা স্যালাইন সহ পর্যাপ্ত ওষুধ মজুদ আছে। তবে অতিরিক্ত রোগীর কারণে অনেককেই মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। আবহাওয়ার উন্নতি হলে এই চাপ কিছুটা হলেও কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

About Md Uzzal