ডিসেম্বর ১০, ২০১৯ ১১:০৬ অপরাহ্ণ ||২৫শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ||১২ই রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরী

মহাকাশ থেকে সৌরশক্তি?

জাপানের একদল বিজ্ঞানী মহাশূন্য থেকে সৌরশক্তি সংগ্রহ করে পৃথিবীতে এনে ব্যবহার করতে চান। আর সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তাঁরা নির্মাণ করছেন একটি বিশেষ ধরনের মহাকাশযান। এতে প্রতি পাশে অন্তত এক দশমিক দুই মাইল লম্বা বর্গাকার সৌর প্যানেল থাকবে, যা সূর্য থেকে শক্তি সংগ্রহ করে ক্ষুদ্র তরঙ্গের (মাইক্রোওয়েভ) মাধ্যমে পৃথিবীতে পাঠাবে।
জাপান অ্যারোস্পেস এক্সপ্লোরেশন এজেন্সির গবেষকেরা সৌরশক্তির মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানির একটি সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছেন। আর সেই সীমাবদ্ধতাটি হচ্ছে সৌরশক্তি রাতের বেলায় সক্রিয় থাকে না এবং খারাপ আবহাওয়ায় পর্যাপ্ত শক্তির জোগান দিতে পারে না। তবে গবেষকেরা মহাকাশে স্থাপন ও ব্যবহারের উপযোগী যে সৌরশক্তি ব্যবস্থা (এসএসপিএস) তৈরি করছেন, সেটি আবহাওয়ার প্রভাবমুক্ত থাকবে এবং সব সময় সূর্যের মুখোমুখি অবস্থান করে পৃথিবীভিত্তিক সৌর প্যানেলের চেয়ে প্রায় ১০ গুণ বেশি শক্তি উৎপাদন ও সরবরাহ করতে সক্ষম হবে।
জাপানের গবেষক দলের একজন প্রকৌশলী দাইসুকে গোতো বলেন, এসএসপিএসের একটি ইউনিট একটি পারমাণবিক চুল্লির প্রায় সমান শক্তি উৎপাদন করতে পারবে বলে তাঁরা অনুমান করছেন। তাই আশা করা যায়, এই এসএসপিএস মানুষের জ্বালানি চাহিদার সবটুকু পূরণ করতে না পারলেও ভবিষ্যতের জ্বালানির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
মহাকাশভিত্তিক সৌরশক্তি উৎপাদন ব্যবস্থার ধারণা যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশ কয়েকটি দেশের গবেষকদের মাথায় আসে সেই ১৯৮০-এর দশকে। কিন্তু প্রযুক্তির সুবিধা অপর্যাপ্ত হওয়ায় এটি অন্যান্য প্রকল্পের আড়ালে পড়ে যায়। গোতো বলেন, মহাকাশযান থেকে পৃথিবীতে সৌরশক্তি পাঠানোর ব্যবস্থা তৈরি করাটাই সবচেয়ে কঠিন কাজ।
পরীক্ষামূলক এক গবেষণায় জাপানের মহাকাশবিজ্ঞানীরা ১ দশমিক ৮ কিলোওয়াট বিদ্যুৎশক্তি মাইক্রোওয়েভে রূপান্তরিত করে অন্তত ১৮০ ফুট দূরের একটি অ্যান্টেনায় পাঠাতে সক্ষম হন। সেখানে ওই মাইক্রোওয়েভকে আবার বিদ্যুৎশক্তিতে রূপান্তরিত করা সম্ভব হয়। মাইক্রোওয়েভকে বেছে নেওয়ার কারণ হচ্ছে, এগুলো সরলরেখায় চলে এবং ঘন মেঘের আবরণ ভেদ করে যেতে পারে।
পৃথিবীতে অবস্থানকারী গ্রহীতা (রিসিভার) কীভাবে সেই সৌরশক্তিকে ‘বন্দী’ করবে সেটিও বিজ্ঞানীদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, তাঁদের প্রস্তাবিত রিসিভারটির ব্যাস হবে এক মাইলের মতো। এটি সমুদ্রে ভাসমান অবস্থায়ও রাখা যেতে পারে। আর সেখান থেকেই বিদ্যুতের গ্রিডের সঙ্গে রিসিভারটির সংযোগ দেওয়া হতে পারে। মহাকাশে এসএসপিএসের জন্য বিভিন্ন উপকরণ পাঠানো এবং সেখানে সংযুক্ত করার কাজটাও একইভাবে কঠিন হবে বলে মনে করছেন গবেষকেরা। মহাশূন্যে এসব যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণ ও ঠিকঠাক করার জন্য যন্ত্রমানব বা রোবট নিয়োগ করতে হবে। গবেষকদের আশা, সৌর প্যানেলযুক্ত প্রতিটি নভোযানের কার্যকারিতার মেয়াদ হবে ৪০ বছর। সাম্প্রতিক গবেষণায় অনেক অগ্রগতি হলেও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এসএসপিএসের কাজ শুরু হতে আরও অন্তত ৩০ বছর লাগতে পারে।

About