ডিসেম্বর ১০, ২০১৯ ১১:০৭ অপরাহ্ণ ||২৫শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ||১২ই রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরী

বাংলাদেশ নয় রোহিঙ্গাদের নেয়া ‍হচ্ছে ‘নিরাপদ’ স্থানে!

৭২৭ রোহিঙ্গাকে পাহারা দিয়ে বাংলাদেশের জল সীমানায় ঢোকানো হচ্ছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে মঙ্গলবার এমন সংবাদ প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করতে বাধ্য হলো মায়ানমার সরকার।

এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে প্রকাশিত খবরে রয়্টার্স, আল জাজিরা সহ আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম মায়ানমারের তথ্যমন্ত্রীর উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, বর্তমানে মায়ানমার নেভির যুদ্ধজাহাজের পাহারায় ৭২৭ জন অভিবাসীবাহী নৌকাকে বাংলাদেশের জলসীমায় পাঠানো হচ্ছে। অভিবাসীদের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতেই তাদের বাংলাদেশের জলসীমায় পাঠানো হচ্ছে এমন দাবি করেন সেদেশের তথ্যমন্ত্রী ইয়ে তুত।

কিন্তু এর কিছুক্ষণের মধ্যে নিজেদের অবস্থান থেকে সরে এসে মায়ানমারের তথ্যমন্ত্রী দাবি করেন, ‘বাংলাদেশ নয়, নিরাপদ স্থানে নেয়া হচ্ছে তাদের।’
মঙ্গলবার আন্দামান থেকে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে এসব অভিবাসীকে।

উদ্ধারের পর এসব অভিবাসীকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে পরিচয় শনাক্ত করা হবে বলে জানান ইয়ে তুত। রয়টার্সকে টেলিফোনে তিনি আরও বলেন, উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। তাদের নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তবে কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তাদের, সে ব্যাপারে কিছু জানাননি তিনি।

রয়টার্সের এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনের নিচে মায়ানমারের তথ্যমন্ত্রীর বক্তব্য পরিবর্তনের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা আছে।

ধারণা করা হচ্ছে পাচারের শিকার হওয়া নৌকাটিকে ঢাকার সম্মতি ছাড়াই বাংলাদেশে ঠেলে দেয়ার বিষয়টি প্রকাশিত হওয়ার পর ব্যাপক আন্তর্জাতিক চাপে পড়ে মায়ানমার সরকার। এ পরিস্থিতিতে দ্রুত নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করে ওই অভিবাসীদের বাংলাদেশের বদলে ‘নিরাপদ’ অবস্থানে নেয়ার কথা বলেন দেশটির তথ্যমন্ত্রী। আরও ধারণা করা হচ্ছে নৌকাটির আরোহীরা মূলত মায়ানমারের নির্যাতিত রোহিঙ্গা মুসলিম সংখ্যালঘু।

এর আগে নৌকাটিকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর অজুহাত হিসেবে ইয়ে তুত রয়টার্সকে জানান, গত শুক্রবার (২৯ মে) এই অভিবাসীদের উদ্ধার করা হয়। তারা মায়ানমারে থাকার চেয়ে বাংলাদেশে যাওয়ার ব্যাপারেই বেশি আগ্রহী ছিল। এ কারণে তাদের নৌবাহিনী বাংলাদেশি জলসীমায় নৌকাটিকে ফেরত পাঠাতে সহায়তা দিচ্ছে। বাংলাদেশি জলসীমা পর্যন্ত তাদেরকে নিরাপত্তা দেবে মায়ানমারের নৌবাহিনী।

তবে এই অভিবাসীদের কোত্থেকে উদ্ধার করা হয়েছে, সে ব্যাপারে তখন কিছু জানাননি ইয়ে তুত। ধারণা করা হচ্ছে, এই অভিবাসীদেরই গত সপ্তাহে সমুদ্র থেকে উদ্ধার করে মায়ানমারের নৌবাহিনী। উদ্ধারের পর তাদের রাখা হয় মায়ানমারের থামী লা দ্বীপে।তবে এখন পর্যন্ত ওই অভিবাসীদের সঙ্গে সাংবাদিকদের কথা বলতে দেয়নি দেশটির সরকার। এমনকি থামী লা দ্বীপেও তাদের যেতে দেওয়া হয়নি। যে সব সাংবাদিক বাধা উপেক্ষা করে ছোট নৌকায় করে থামী লা দ্বীপে যাওয়ার চেষ্টা করেছে, তাদেরকে ফিরিয়ে দিয়েছে মায়ানমার নৌবাহিনীর সদস্যরা। সেই সঙ্গে ক্যামেরায় কোনো ছবি বা ভিডিও ফুটেজ ধারণ করে থাকলে, তা মুছে ফেলারও নির্দেশ দেওয়া হয় সে সময়।

শুধু তাই নয় ‘আবার ওই দ্বীপে যাওয়ার চেষ্টা করা হবে না’ এমন লিখিত বিবৃতিও এ সময় জোর করে সাংবাদিকদের থেকে আদায় করা হয় বলে অভিযোগ করেন সাংবাদিকরা।

এর থেকেই ধারণা করা হচ্ছে ওই দ্বীপে রাখা অভিবাসীরা আসলে রোহিঙ্গা, এ কারণেই এত রাখঢাক। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে আরও প্রকাশ হয়, থামী লা দ্বীপে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। মায়ানমার সরকার এই ঘটনা লুকিয়ে রাখতেই সাংবাদিকদের প্রবেশ করতে দিচ্ছে না।

শুধু সাংবাদিকই নয়, এখন পর্যন্ত ওই দ্বীপে রাখা অভিবাসীদের সঙ্গে কোনো মানবাধিকার সংস্থা বা আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থার কোনো কর্মীকেই সাক্ষাৎ করতে দেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে।

About